হাতের উল্টো পিঠ কী বলে?
করপৃষ্ঠের প্রাচীন বিশ্লেষণ — সংস্কৃত শ্লোক সহ
✍️ Dr Prodyut Acharya · 📅 ২১ মার্চ ২০২৬ · ⏱️ ৮ মিনিট
"হস্তরেখা শুধু হাতের তালুতে নয় — হাতের উল্টো পিঠেও লেখা থাকে মানুষের ভাগ্যের কথা।"
সামুদ্রিক শাস্ত্র ও হাতের রেখা বিচার সম্পর্কে কমবেশি সকলেই শুনেছেন। কিন্তু হাতের উল্টো পিঠ — করপৃষ্ঠ — নিয়ে বাংলায় আলোচনা প্রায় হয় না।
ভারতীয় উপমহাদেশের পণ্ডিত ও মুনি-ঋষিরা দীর্ঘ গবেষণার পর প্রাচীন শাস্ত্রে করপৃষ্ঠ বিষয়ে প্রচুর অমূল্য তথ্য রেখে গেছেন। বহু বিদেশি আক্রমণ ও বিদেশি শাসনের কারণে সেই শাস্ত্র ও সংস্কৃতি অনেকটাই লুপ্তপ্রায়। তবু প্রাচীন পুঁথিপত্র ঘাটলে এখনো তাদের গবেষণার অংশ খুঁজে পাওয়া যায়।
করপৃষ্ঠ কী এবং কেন গুরুত্বপূর্ণ?
হস্তরেখা শাস্ত্রে শুধু হাতের করতল নয় — হাতের আঙুল, রেখা, রং, নখ এবং হাতের পিছনের অংশ বা করপৃষ্ঠ — সব কিছুরই সূক্ষ্ম বিচার করা হয়।
করপৃষ্ঠের আকার-প্রকার বিচার করে মানুষের ক্ষমতা, যোগ্যতা, স্বভাব এবং দোষ-গুণ সম্পর্কে জানা যায়। সামুদ্রিক শাস্ত্র অনুযায়ী করপৃষ্ঠের গঠন, আকার ও প্রকারের ভীষণ মাহাত্ম্য রয়েছে।
প্রথম শ্লোক — শ্রেষ্ঠ করপৃষ্ঠের লক্ষণ
হস্তপৃষ্ঠং সর্পফনাকারং রোম বিবর্জিতম্।
শ্রেষ্ঠ মাংসলমুচ্চাংগং মণিবন্ধাকিতং শুভম্।।
যে ব্যক্তির করপৃষ্ঠ সাপের ফনার আকৃতি, পশমহীন, মাংসালো এবং মণিবন্ধের তুলনায় উঁচু — সেই ব্যক্তি অবশ্যই শুভ ফল প্রাপ্ত করেন। এই ধরনের হাতের মানুষেরা উত্তম গুণাবলীসম্পন্ন হন।
মণিবন্ধ অর্থাৎ আমরা যাকে কব্জি বলি। সর্পাকৃতি করপৃষ্ঠকে শাস্ত্রে শ্রেষ্ঠ বলা হয়েছে।
দ্বিতীয় শ্লোক — রাজযোগের লক্ষণ
অথ শস্তং কর পৃষ্ঠং বিস্তীর্ণ পীনমুন্নতং স্নিগ্ধং।
নিগূঢ় শিরং পরিতঃ ক্ষোণিপতেঃ ফণিফণাকারম্।।
রাজা ও কুলীন ব্যক্তির হাতের করপৃষ্ঠ বেশ উচ্চ ও ঘন আকারের হয়, শিরা দেখা যায় না এবং স্নিগ্ধ আভাযুক্ত। প্রাচীন শাস্ত্রে উঁচু করপৃষ্ঠকে শ্রেষ্ঠ বলা হয়েছে।
তৃতীয় শ্লোক — অশুভ করপৃষ্ঠের লক্ষণ
বিবর্ণ পুরুষং রুক্ষং রোমশং মাংসবর্জিতম্।
মণিবন্ধ সমং নিম্নং ন শ্রেষ্ঠ কর পৃষ্ঠম্।।
বিবর্ণ, শুকনো, লোমযুক্ত, মাংসহীন এবং মণিবন্ধের তুলনায় নিম্ন করপৃষ্ঠ শুভ ফল প্রদান করে না।
করপৃষ্ঠের ৫টি বৈশিষ্ট্য ও তাদের অর্থ
🔺 উচ্চ করপৃষ্ঠ
করপৃষ্ঠ উঁচু হলে ব্যক্তি ভাগ্যবান, ঐশ্বর্যবান ও শক্তিশালী হন। জীবনে সমস্ত ধরনের সুখ ও সম্মান ভোগ করেন।
⬇️ নিম্ন করপৃষ্ঠ
মণিবন্ধের তুলনায় নিচু হলে অর্থাভাব, উৎসাহহীনতা ও বিভিন্ন সংকটের ইঙ্গিত। গর্তের মতো আকার বিশেষ অশুভ।
➡️ সমতল করপৃষ্ঠ
শুভ ও অশুভ দুই রকম ফলই দেয়। মাঝের দিক বসে গেলে অর্থহানি ও রোগের ইঙ্গিত। কোনো অংশ উঁচু থাকলে সেই ক্ষেত্রে লাভ।
🌿 করপৃষ্ঠের লোম
লোমহীন হলে সৌভাগ্যশালী। অল্প লোম থাকলে কিছু সংঘর্ষের পর সুখ। কঠিন ও লম্বা লোম হলে জীবনে অনেক সংগ্রাম।
🔵 হাতের শিরা
করপৃষ্ঠে শিরা দেখা যাওয়া শুভ নয়। শিরা না দেখা গেলে করপৃষ্ঠ শুভ বলা হয়।
স্কন্দ পুরাণের বিশেষ উল্লেখ
অতি প্রাচীন ভারতীয় গ্রন্থ স্কন্দ পুরাণে বর্ণিত আছে — কোনো স্ত্রীর করপৃষ্ঠ যদি পশমযুক্ত, শিরা দেখা যায় এবং মাংসালো না হয়, তাদের জীবন সংঘর্ষময় ও কষ্টপূর্ণ হয়ে থাকে।
সারসংক্ষেপ — শুভ ও অশুভ করপৃষ্ঠ
শুভ লক্ষণ: সর্পফনার মতো উঁচু, মাংসালো, লোমহীন, শিরা অদৃশ্য, স্নিগ্ধ আভাযুক্ত করপৃষ্ঠ।
মিশ্র লক্ষণ: অল্প লোম, সমতল করপৃষ্ঠ — কিছু সংগ্রামের পর সুখ।
অশুভ লক্ষণ: বিবর্ণ, শুকনো, লোমযুক্ত, শিরাদৃশ্যমান, মণিবন্ধের চেয়ে নিচু করপৃষ্ঠ।
"প্রাচীন শাস্ত্র আমাদের সতর্ক করে — কিন্তু কর্মের মাধ্যমে ভাগ্য গড়ে তোলার শক্তি সবসময় মানুষের নিজের হাতেই।"
• সংশয় থেকে হস্তরেখায় — বিজ্ঞান যা বলে
• হাতের রেখায় ক্যারিয়ার ও ধন বিশ্লেষণ
• হাতের বিবাহ রেখা কী বলে?