হাতের উল্টো পিঠ কী বলে?
করপৃষ্ঠের প্রাচীন বিশ্লেষণ — সংস্কৃত শ্লোক সহ
"হস্তরেখা শুধু হাতের তালুতে নয় — হাতের উল্টো পিঠেও লেখা থাকে মানুষের ভাগ্যের কথা।"
সামুদ্রিক শাস্ত্র ও হাতের রেখা বিচার সম্পর্কে কমবেশি সকলেই শুনেছেন। কিন্তু হাতের উল্টো পিঠ — করপৃষ্ঠ — নিয়ে বাংলায় আলোচনা প্রায় হয় না।
ভারতীয় উপমহাদেশের পণ্ডিত ও মুনি-ঋষিরা দীর্ঘ গবেষণার পর প্রাচীন শাস্ত্রে করপৃষ্ঠ বিষয়ে প্রচুর অমূল্য তথ্য রেখে গেছেন। বহু বিদেশি আক্রমণ ও বিদেশি শাসনের কারণে সেই শাস্ত্র ও সংস্কৃতি অনেকটাই লুপ্তপ্রায়। তবু প্রাচীন পুঁথিপত্র ঘাটলে এখনো তাদের গবেষণার অংশ খুঁজে পাওয়া যায়।
করপৃষ্ঠ কী এবং কেন গুরুত্বপূর্ণ?
হস্তরেখা শাস্ত্রে শুধু হাতের করতল নয় — হাতের আঙুল, রেখা, রং, নখ এবং হাতের পিছনের অংশ বা করপৃষ্ঠ — সব কিছুরই সূক্ষ্ম বিচার করা হয়।
করপৃষ্ঠের আকার-প্রকার বিচার করে মানুষের ক্ষমতা, যোগ্যতা, স্বভাব এবং দোষ-গুণ সম্পর্কে জানা যায়। সামুদ্রিক শাস্ত্র অনুযায়ী করপৃষ্ঠের গঠন, আকার ও প্রকারের ভীষণ মাহাত্ম্য রয়েছে।
প্রথম শ্লোক — শ্রেষ্ঠ করপৃষ্ঠের লক্ষণ
শ্রেষ্ঠ মাংসলমুচ্চাংগং মণিবন্ধাকিতং শুভম্।।
মণিবন্ধ অর্থাৎ আমরা যাকে কব্জি বলি। সর্পাকৃতি করপৃষ্ঠকে শাস্ত্রে শ্রেষ্ঠ বলা হয়েছে।
দ্বিতীয় শ্লোক — রাজযোগের লক্ষণ
নিগূঢ় শিরং পরিতঃ ক্ষোণিপতেঃ ফণিফণাকারম্।।
তৃতীয় শ্লোক — অশুভ করপৃষ্ঠের লক্ষণ
মণিবন্ধ সমং নিম্নং ন শ্রেষ্ঠ কর পৃষ্ঠম্।।
করপৃষ্ঠের ৫টি বৈশিষ্ট্য ও তাদের অর্থ
স্কন্দ পুরাণের বিশেষ উল্লেখ
অতি প্রাচীন ভারতীয় গ্রন্থ স্কন্দ পুরাণে বর্ণিত আছে — কোনো স্ত্রীর করপৃষ্ঠ যদি পশমযুক্ত, শিরা দেখা যায় এবং মাংসালো না হয়, তাদের জীবন সংঘর্ষময় ও কষ্টপূর্ণ হয়ে থাকে।
সারসংক্ষেপ — শুভ ও অশুভ করপৃষ্ঠ
"প্রাচীন শাস্ত্র আমাদের সতর্ক করে — কিন্তু কর্মের মাধ্যমে ভাগ্য গড়ে তোলার শক্তি সবসময় মানুষের নিজের হাতেই।"