সব পোস্ট দেখুন
নাস্তিক ও ধার্মিক — দুজনেই কি একই ভুলে আছেন? (পর্ব ২)

নাস্তিক ও ধার্মিক — দুজনেই কি একই ভুলে আছেন? (পর্ব ২)

প্রদ্যুত আচার্য MyAstrology Ranaghat নাস্তিক ও আস্তিক মন নিয়ন্ত্রণ গীতা কর্মফল ও ঈশ্বর

নাস্তিক ও ধার্মিক
দুজনেই কি একই ভুলে আছেন? — পর্ব ২

✍️ Dr Prodyut Acharya  |  📅 ১৯ মার্চ ২০২৬  |  ⏱️ ৭ মিনিট


"ঈশ্বরকে না জানলে ঈশ্বরে বিশ্বাস আসবে না — বিশ্বাস না হলে অনুভূতি হবে না — অনুভূতি না হলে উপলব্ধি হবে না।"

গীতায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে বলেছিলেন — হে পার্থ, মনকে স্থির করো।

অর্জুন উত্তরে বললেন — হে মাধব, মন বায়ুর চেয়েও গতিশীল। বায়ুকে স্থির করা সম্ভব হলেও মনকে স্থির করা যাচ্ছে না। কেউ যেন আমাকে প্রভাবিত করছে, তার ইচ্ছামতো পরিচালিত করছে।

ভগবান বললেন — অন্য কেউ নয়, তোমার নিজের ইন্দ্রিয়গণই তোমাকে প্রভাবিত করছে। ঘ্রাণ, স্পর্শ, শ্রবণ, দর্শন, আস্বাদন — এরা বশীভূত হলে মন স্থির হবে।


মন ও ইন্দ্রিয় — কর্মের মাধ্যমেই নিয়ন্ত্রণ

মন দ্বারা ইন্দ্রিয়দের নিয়ন্ত্রণ করতে হলে দৈনন্দিন জীবনে ইন্দ্রিয়গণের কর্ম সঠিকভাবে পরিচালনা করতে হবে। অর্থাৎ সমস্ত কিছু নিজেদের কর্মের মাধ্যমেই করতে হবে।

ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন — কর্ম করে যাও, ফলের আশা করো না। কিন্তু কর্মফল পেতেই হবে — কোনো কর্মই ফলবিহীন নয়। আমরা আজ পর্যন্ত যা কিছু প্রাপ্ত করেছি সবই কর্মের ফল।

নিজের কর্ম, অপরের কর্ম, সমাজের কর্ম, প্রকৃতির কর্ম — এই সমস্ত কর্ম একত্রিত হয়েও ফল প্রদান করে। যারা এই সত্য জানেন, তারা সচেতনভাবে কর্ম করেন এবং ভুল হলে সংশোধন করেন।

"ছোট্ট বীজ ভবিষ্যতে বিশাল বৃক্ষ উৎপন্ন করে — আজকের কর্মও তেমনই।"

নাস্তিক ও ধার্মিক — শেষ বয়সে একই সংশয়

একটি অসাধারণ তুলনা ভাবুন।

একজন নাস্তিক সমস্ত জীবন ঈশ্বরের বিরুদ্ধে আচরণ করেছেন। শেষ বয়সে মনে সংশয় জাগে — সারাজীবন ঈশ্বরের নিন্দা করলাম, যদি ঈশ্বর সত্যিই থাকেন তাহলে কী হবে? এই সংশয় তার মনে ভয় তৈরি করে।

অন্যদিকে একজন ধার্মিক সমস্ত জীবন পুজো-পাঠ, গুণকীর্তন করেছেন। শেষ বয়সে মনে হয় — সারাজীবন মূর্তিকে ঈশ্বর ভেবে পুজো করলাম, অন্যদের মতো জীবন উপভোগ করতে পারলাম না — যদি ঈশ্বর না থাকেন তাহলে সব বৃথা? এই সংশয় তার মনে দুঃখ তৈরি করে।

এই দুজনের একজনকেও প্রকৃত ঈশ্বরবিশ্বাসী বলা যাবে না। কারণ নাস্তিক মানুষটা জানেই না সে কী অবিশ্বাস করছে, ধার্মিক মানুষটাও জানেন না তিনি কী বিশ্বাস করছেন। এই বিশ্বাস ও অবিশ্বাস আসলে একই জিনিস।


আসল পথ — জানা, অনুভব করা, উপলব্ধি করা

ঈশ্বরকে না জানলে ঈশ্বরে বিশ্বাস আসবে না। বিশ্বাস না হলে অনুভূতি হবে না। অনুভূতি না হলে উপলব্ধি হবে না। উপলব্ধি না হলে দর্শন হবে না।

মহামানবেরা যে কর্মের মাধ্যমে জীবন চলার পথ দেখিয়েছেন — সেই পথ অনুসরণ করেই ঈশ্বরকে জানা সম্ভব।

প্রকৃতি সর্বদাই সুন্দর। শুধু আমাদের কাম, ক্রোধ, লালসা, ঈর্ষা ও মনের অস্থিরতার কারণে আমরা সেই সৌন্দর্য অনুভব করতে পারি না। ঈশ্বর উপলব্ধি হলে এই প্রকৃতির সৌন্দর্য আরও গভীরভাবে উপভোগ করা যাবে — মন আনন্দে পরিপূর্ণ হবে, আত্মা তৃপ্ত হবে।

"ঈশ্বর বিশ্বাস করার চেয়ে ঈশ্বরকে জানার প্রয়োজন বেশি — জানলে বিশ্বাস আসবে, বিশ্বাস এলে উপলব্ধি আসবে।"

🔗 এই সিরিজের অন্যান্য পোস্ট:
পর্ব ১: ঈশ্বরে বিশ্বাস করলেই কি হয়? — বিবেকানন্দ যা বলেছিলেন
মন্ত্র জপ কি সত্যিই কাজ করে? — বিজ্ঞান ও আধ্যাত্মিকতার উত্তর
বিশ্বাস কি কুসংস্কার? প্রকৃতি ও মানুষের অদৃশ্য বন্ধন

✍️ লেখক পরিচিতি

Dr Prodyut Acharya

জ্যোতিষী, হস্তরেখাবিদ, দার্শনিক চিন্তাবিদ ও ভাগ্য উন্নতির পরামর্শদাতা। রানাঘাট, নদিয়া, পশ্চিমবঙ্গ।  myastrology.in

🌙 আজকের রাশিফল ও দিন পঞ্জিকা

জানুন আজকের রাশিফল, প্রেম, কর্ম, অর্থ, স্বাস্থ্য, শুভ সংখ্যা ও শুভ সময়।

আজই দেখুন →

🔮 ব্যক্তিগত পরামর্শ নিন

হস্তরেখা বিচার · জন্মকুণ্ডলী বিশ্লেষণ · যোটোক মিলন
Dr. Prodyut Acharya — PhD Gold Medalist · রানাঘাট

WhatsApp করুন

Razorpay দ্বারা সুরক্ষিত • UPI • Card • Net Banking

🧑‍🎓

Dr. Prodyut Acharya

PhD Gold Medalist · জ্যোতিষী ও হস্তরেখাবিদ · রানাঘাট, নদিয়া

১৫+ বছরের অভিজ্ঞতায় হাজারো জন্মকুণ্ডলী ও হস্তরেখা বিশ্লেষণ করেছেন। → আরও জানুন