সব পোস্ট দেখুন
করণ নির্ণয় পদ্ধতি: তিথির অর্ধাংশে লুকিয়ে থাকা সময়ের সূক্ষ্ম প্রভাব | ড. প্রদ্যুৎ আচার্য

করণ নির্ণয় পদ্ধতি: তিথির অর্ধাংশে লুকিয়ে থাকা সময়ের সূক্ষ্ম প্রভাব | ড. প্রদ্যুৎ আচার্য

করণ গণনা পঞ্চাঙ্গ করণ ১১ করণ বব করণ নাগ করণ বিষ্টি করণ মুহূর্তশাস্ত্র

পঞ্জিকার পাতায় তিথি, বার, নক্ষত্রের পাশাপাশি আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ থাকে—করণ। অনেকেই হয়তো চোখের সামনে দিয়ে যাওয়া এই শব্দটিকে বিশেষ আমলে নেন না। কিন্তু জ্যোতিষ দর্শনে করণের গুরুত্ব অপরিসীম। কারণ করণ হলো সময়ের সবচেয়ে সূক্ষ্মতম পরিমাপ—একটি তিথির অর্ধাংশ। শাস্ত্রে বলা আছে, নির্দিষ্ট করণে শুরু করা কাজ নির্দিষ্ট ফলপ্রবণতার প্রবণতা তৈরি করে। যেমন—‘বব’ করণে যুদ্ধ বা প্রতিযোগিতামূলক কাজ অনুকূল ফল দিতে পারে, আবার ‘নাগ’ করণে বিবাহের ক্ষেত্রে সতর্কতা প্রয়োজন

আজ আমরা জানব করণ আসলে কী, কীভাবে এটি গণনা করা হয়, ১১টি করণের শাস্ত্রীয় শ্রেণিবিভাগ ও বৈশিষ্ট্য, এবং জ্যোতিষশাস্ত্রে করণের গুরুত্ব—সবকিছু সহজ বাংলায়, জ্যোতিষ দর্শনের ভাষায়।


করণ কী? জ্যোতিষ দর্শনের সংজ্ঞা

করণ হলো তিথির অর্ধাংশ। একটি তিথির সময়কালকে দুই ভাগে ভাগ করলে প্রতিটি ভাগকে করণ বলে। অর্থাৎ, ৩০টি তিথিতে মোট ৬০টি করণ হয়। কিন্তু এই ৬০টি করণ মাত্র ১১টি নামে পরিচিত। কারণ কিছু করণ পুনরাবৃত্তি হয়, আর কিছু করণ নির্দিষ্ট তিথিতেই আসে।
“তিথেরর্ধং করণং প্রোক্তং কর্মণাং সূক্ষ্মনির্ণয়ম্।” — মুহূর্ত চিন্তামণি

অর্থাৎ, তিথির অর্ধাংশকে করণ বলে, এবং এটি কর্মের সূক্ষ্ম নির্ণয়ের জন্য ব্যবহৃত হয়।

সাংখ্য দর্শন অনুযায়ী, করণ হলো আকাশতত্ত্বের প্রতিনিধি। আকাশের মতো করণ সূক্ষ্ম, সর্বব্যাপী এবং প্রভাব গভীর। এটি সময়ের সেই অংশকে নির্দেশ করে যা সাধারণ দৃষ্টিতে ধরা পড়ে না, কিন্তু কর্মের ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

১১টি করণের শাস্ত্রীয় শ্রেণিবিভাগ

মোট ১১টি করণ। এগুলিকে শাস্ত্রে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে—চলক করণ (চলমান) এবং স্থির করণ (অচল)। এই শ্রেণিবিভাগ করণগুলির পুনরাবৃত্তির প্রকৃতি নির্দেশ করে।

চলক করণ (৭টি)

এই করণগুলি নিয়মিতভাবে করণচক্রে আবর্তিত হয়। প্রতিটি করণ একবার করে আসে, তারপর চক্র আবার শুরু হয়। চলক করণগুলি হলো—

ক্রমকরণের নামপ্রকৃতিপ্রভাব ও ব্যবহারের প্রবণতা
বিষ্টি (ভদ্রা)চলকঅশুভ প্রবণতা সম্পন্ন। শুভকর্মের জন্য এড়িয়ে চলা উচিত। রাহুকালের মতো এ সময় শুভকর্ম শুরু না করাই ভালো।
ববচলকপ্রতিযোগিতা, যুদ্ধ, শত্রু বিনাশ—এই ধরনের কাজে অনুকূল প্রবণতা তৈরি করে। বিবাহ ইত্যাদি শান্তিপূর্ণ কাজের জন্য ততটা উপযোগী নয়।
বালবচলকশক্তি ও প্রতাপের করণ। শারীরিক পরিশ্রমের কাজ, প্রতিযোগিতামূলক কাজের জন্য অনুকূল।
কুলবচলকবিবাহ, গৃহপ্রবেশ, ব্যবসা শুরু—এই ধরনের শান্তিপূর্ণ শুভকর্মের জন্য সতর্কতা প্রয়োজন। তন্ত্রসাধনার জন্য উপযোগী।
তৈতুলচলকবাণিজ্য, যাত্রা, ব্যবসায়িক কাজের জন্য অনুকূল। ফলপ্রাপ্তি দ্রুত হওয়ার প্রবণতা থাকে।
গরজচলকসৌভাগ্য ও সম্মান বৃদ্ধির করণ। রাজকীয় কাজ, সামাজিক অনুষ্ঠানের জন্য অনুকূল।
বণিজচলকব্যবসা, বাণিজ্য, আর্থিক লেনদেনের জন্য অত্যন্ত অনুকূল। সম্পদ বৃদ্ধিতে সহায়ক প্রবণতা তৈরি করে।

চলক করণের চক্র: বিষ্টি → বব → বালব → কুলব → তৈতুল → গরজ → বণিজ → আবার বিষ্টি—এই ক্রমে চলক করণগুলি আবর্তিত হয়।

স্থির করণ (৪টি)

এই করণগুলি নির্দিষ্ট তিথিতে আসে। এগুলি করণচক্রের অংশ নয়, বরং বিশেষ তিথিতে স্থিরভাবে অবস্থান করে।

করণের নামকোন তিথিতেপ্রকৃতিপ্রভাব ও ব্যবহারের প্রবণতা
কিম্বস্তুঘ্নশুক্লপক্ষের প্রতিপদের প্রথমার্ধস্থিরশুভকর্মের জন্য মধ্যম ফলদায়ক প্রবণতা। সাধারণ কাজ শুরু করা যায়। এটি শুধুমাত্র এই একবারই আসে।
শকুনিকৃষ্ণপক্ষের চতুর্দশীর দ্বিতীয়ার্ধস্থিরমধ্যম ফলদায়ক। সাধারণ কাজ করা যায়, কিন্তু বড় শুভকর্মের ক্ষেত্রে সতর্কতা প্রয়োজন।
চতুষ্পদপূর্ণিমার প্রথমার্ধস্থিরপশুসম্পর্কিত কাজ, কৃষিকাজের জন্য অনুকূল। বিবাহ ইত্যাদির জন্য ততটা উপযোগী নয়।
নাগপূর্ণিমার দ্বিতীয়ার্ধস্থিরসর্পসম্পর্কিত কাজ, তন্ত্রসাধনার জন্য অনুকূল। বিবাহ, গৃহপ্রবেশের ক্ষেত্রে সতর্কতা প্রয়োজন।

করণ গণনার শাস্ত্রীয় পদ্ধতি

মৌলিক সূত্র

প্রাচীন জ্যোতিষ গ্রন্থ সূর্য সিদ্ধান্তমুহূর্ত চিন্তামণি-তে করণ গণনার সূত্র দেওয়া আছে—

করণ ক্রমিক নম্বর = ⌊(তিথির অগ্রগতি ডিগ্রি) ÷ ৬°⌋ + ১

এখানে ⌊ ⌋ চিহ্নটি ফ্লোর ফাংশন নির্দেশ করে—অর্থাৎ ভাগফলের পূর্ণসংখ্যা অংশ নিতে হবে, দশমিক অংশ বাদ দিতে হবে।

ধাপে ধাপে গণনা

ধাপ ১: প্রথমে তিথি সংখ্যা এবং তিথির অগ্রগতি ডিগ্রি নির্ণয় করুন। একটি তিথি সম্পূর্ণ হতে ১২° লাগে। তিথি শুরু থেকে কত ডিগ্রি অগ্রসর হয়েছে, তা বের করুন।

ধাপ ২: এই অগ্রগতি ডিগ্রিকে ৬° দিয়ে ভাগ করুন।

ধাপ ৩: ভাগফলের পূর্ণসংখ্যা অংশ (ফ্লোর) নিন—অর্থাৎ দশমিকের পরের সংখ্যাগুলো বাদ দিন।

ধাপ ৪: প্রাপ্ত সংখ্যার সাথে ১ যোগ করুন। প্রাপ্ত সংখ্যাটি করণের ক্রমিক নম্বর।

ধাপ ৫: নিচের তালিকা থেকে করণের নাম চিহ্নিত করুন।

করণের ক্রমিক তালিকা (শাস্ত্রীয় গণনার জন্য)

ক্রমিক নম্বরকরণের নামপ্রকৃতি
বিষ্টিচলক
ববচলক
বালবচলক
কুলবচলক
তৈতুলচলক
গরজচলক
বণিজচলক
কিম্বস্তুঘ্নস্থির
শকুনিস্থির
১০চতুষ্পদস্থির
১১নাগস্থির

উদাহরণ ১: প্রতিপদ তিথির প্রথমার্ধ

মনে করুন, প্রতিপদ তিথি চলছে এবং অগ্রগতি ৩°—

  • তিথির অগ্রগতি = ৩°
  • ৩ ÷ ৬ = ০.৫
  • পূর্ণসংখ্যা অংশ (ফ্লোর) = ০
  • ০ + ১ = ১
  • ক্রমিক নম্বর ১ = বিষ্টি করণ

উদাহরণ ২: প্রতিপদ তিথির দ্বিতীয়ার্ধ

মনে করুন, প্রতিপদ তিথি চলছে এবং অগ্রগতি ৯°—

  • তিথির অগ্রগতি = ৯°
  • ৯ ÷ ৬ = ১.৫
  • পূর্ণসংখ্যা অংশ (ফ্লোর) = ১
  • ১ + ১ = ২
  • ক্রমিক নম্বর ২ = বব করণ

তিথি অনুযায়ী করণের সারণি

নিচে তিথি অনুযায়ী করণের সম্পূর্ণ তালিকা দেওয়া হলো—

শুক্লপক্ষের করণ

তিথিপ্রথমার্ধের করণদ্বিতীয়ার্ধের করণ
প্রতিপদ (১)কিম্বস্তুঘ্ন (স্থির)বিষ্টি (চলক)
দ্বিতীয়া (২)বববালব
তৃতীয়া (৩)কুলবতৈতুল
চতুর্থী (৪)গরজবণিজ
পঞ্চমী (৫)বিষ্টিবব
ষষ্ঠী (৬)বালবকুলব
সপ্তমী (৭)তৈতুলগরজ
অষ্টমী (৮)বণিজবিষ্টি
নবমী (৯)বববালব
দশমী (১০)কুলবতৈতুল
একাদশী (১১)গরজবণিজ
দ্বাদশী (১২)বিষ্টিবব
ত্রয়োদশী (১৩)বালবকুলব
চতুর্দশী (১৪)তৈতুলগরজ
পূর্ণিমা (১৫)চতুষ্পদ (স্থির)নাগ (স্থির)

কৃষ্ণপক্ষের করণ

তিথিপ্রথমার্ধের করণদ্বিতীয়ার্ধের করণ
প্রতিপদ (১৬)বণিজবিষ্টি
দ্বিতীয়া (১৭)বববালব
তৃতীয়া (১৮)কুলবতৈতুল
চতুর্থী (১৯)গরজবণিজ
পঞ্চমী (২০)বিষ্টিবব
ষষ্ঠী (২১)বালবকুলব
সপ্তমী (২২)তৈতুলগরজ
অষ্টমী (২৩)বণিজবিষ্টি
নবমী (২৪)বববালব
দশমী (২৫)কুলবতৈতুল
একাদশী (২৬)গরজবণিজ
দ্বাদশী (২৭)বিষ্টিবব
ত্রয়োদশী (২৮)বালবকুলব
চতুর্দশী (২৯)তৈতুলগরজ
অমাবস্যা (৩০)শকুনি (স্থির)কিম্বস্তুঘ্ন (স্থির)

করণের ব্যবহারিক প্রয়োগ

১. শুভকর্মে করণের ভূমিকা

জ্যোতিষশাস্ত্রে করণের ভূমিকা অত্যন্ত সূক্ষ্ম। নির্দিষ্ট করণে নির্দিষ্ট কাজ করলে অনুকূল ফলপ্রবণতা তৈরি হয়। তবে এটি এককভাবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়—গ্রহের অবস্থান, তিথি, নক্ষত্র, লগ্ন—সবকিছু মিলিয়ে শুভ মুহূর্ত নির্ণয় করা হয়।

কাজঅনুকূল করণ প্রবণতাসতর্কতা প্রয়োজন এমন করণ
বিবাহগরজ, বণিজ, তৈতুলকুলব, নাগ, বিষ্টি
গৃহপ্রবেশতৈতুল, গরজ, বণিজকুলব, বিষ্টি, শকুনি
ব্যবসা শুরুবণিজ, তৈতুল, গরজবিষ্টি, কুলব
যাত্রাতৈতুল, বণিজবিষ্টি, নাগ
যুদ্ধ, প্রতিযোগিতাবব, বালবকুলব, নাগ, বিষ্টি
তন্ত্রসাধনাকুলব, নাগ
দান-ধ্যানগরজ, বণিজবিষ্টি, শকুনি

২. বিষ্টি করণ (ভদ্রা)

বিষ্টি করণ বা ভদ্রা অশুভ প্রবণতা সম্পন্ন বলে বিবেচিত। রাহুকালের মতো এই সময় যেকোনো শুভকর্ম শুরু করার ক্ষেত্রে সতর্কতা প্রয়োজন। পঞ্জিকায় সাধারণত ‘ভদ্রা’ নামে এটি উল্লেখ করা হয়।

📖 গুরুত্বপূর্ণ অংশ: বিষ্টি করণে শুরু করা কাজে বাধা ও অশান্তি হওয়ার প্রবণতা বেশি বলে শাস্ত্রবিদরা মনে করেন। তাই যেকোনো শুভকর্মের মুহূর্ত নির্ধারণে বিষ্টি করণ এড়িয়ে চলা উত্তম। তবে ইতিমধ্যে চলমান কাজের জন্য এটি ততটা প্রযোজ্য নয়।

৩. নাগ ও কুলব করণ

নাগ করণে বিবাহ, গৃহপ্রবেশ ইত্যাদি শান্তিপূর্ণ শুভকর্মের ক্ষেত্রে সতর্কতা প্রয়োজন। কারণ এই করণের প্রভাবে বৈবাহিক জীবনে অশান্তি দেখা দেওয়ার প্রবণতা বেশি বলে ধারণা করা হয়। কুলব করণের ক্ষেত্রেও একই রকম সতর্কতা প্রযোজ্য।


করণের দার্শনিক দৃষ্টিভঙ্গি

সাংখ্য দর্শন অনুযায়ী, করণ হলো আকাশতত্ত্বের প্রতিনিধি। আকাশ যেমন সূক্ষ্ম, সর্বব্যাপী কিন্তু সহজে ধরা পড়ে না—তেমনি করণের প্রভাবও সূক্ষ্ম। এটি সময়ের সেই অংশকে নির্দেশ করে যা সাধারণ দৃষ্টিতে ধরা পড়ে না, কিন্তু কর্মের ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
“করণং সূক্ষ্মকালস্য মাপকং কর্মসিদ্ধিদম্।” — মুহূর্ত চিন্তামণি

অর্থাৎ করণ সূক্ষ্ম সময়ের পরিমাপক, যা কর্মের সিদ্ধি প্রদানের প্রবণতা তৈরি করে।


করণ গণনার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য

করণ গণনার জন্য নিম্নলিখিত তথ্য প্রয়োজন—

১. তিথি তথ্য প্রথমে তিথি সংখ্যা এবং তিথির অগ্রগতি ডিগ্রি জানতে হবে।

২. চন্দ্র ও সূর্যের দ্রাঘিমাংশ তিথি গণনার জন্য চন্দ্র ও সূর্যের দ্রাঘিমাংশ প্রয়োজন। এই তথ্য পাওয়া যায়—

  • সূর্য সিদ্ধান্ত গ্রন্থ
  • মুহূর্ত চিন্তামণি গ্রন্থ
  • আধুনিক জ্যোতিষ সফটওয়্যার
  • নির্ভরযোগ্য পঞ্জিকা

৩. সূর্যোদয়ের সময় তিথি ও করণ সূর্যোদয় ভিত্তিক। তাই স্থানীয় সূর্যোদয়ের সময় জানা জরুরি।


উপসংহার: করণ—সময়ের সূক্ষ্মতম পরিমাপ

করণ গণনার পদ্ধতি শুধু একটি জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক গণনা নয়। এটি প্রাচীন ভারতীয় জ্যোতিষ দর্শনের এক অপূর্ব দৃষ্টান্ত—যেখানে সময়কে এতটাই সূক্ষ্মভাবে ভাগ করা হয়েছে যে, কর্মের ফলপ্রবণতা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। বব করণে যুদ্ধ অনুকূল হওয়ার প্রবণতা, নাগ করণে বিবাহে সতর্কতা—এই সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণ প্রাচীন ঋষিদের অসামান্য জ্ঞানের পরিচয় বহন করে।

“করণ জানলে জানবে সময়ের সূক্ষ্ম দান,
বব-বালবে শক্তির আভাস, নাগ-বিষ্টি করিহ সাবধান।।”

❓ প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

প্রশ্ন ১: বিষ্টি করণ বা ভদ্রা কেন এড়িয়ে চলা উচিত? এটি কি সবসময় অশুভ?

উত্তর: জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী, বিষ্টি করণে শুরু করা কাজে বাধা ও অশান্তি হওয়ার প্রবণতা বেশি। মুহূর্ত চিন্তামণি গ্রন্থে বিষ্টি করণে শুভকর্ম শুরু না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে এটি ‘অশুভ’ নয়, বরং ‘সতর্কতা প্রয়োজন’—এমন করণ। রাহুকালের মতো এ সময় নতুন শুভকর্ম শুরু না করাই ভালো। ইতিমধ্যে চলমান কাজের জন্য এটি প্রযোজ্য নয়।

প্রশ্ন ২: ‘বব’ করণে যুদ্ধ শুভ—এটি কি সব সময় সত্য?

উত্তর: শাস্ত্রে বলা আছে, বব করণে যুদ্ধ বা প্রতিযোগিতামূলক কাজ অনুকূল ফলপ্রবণতা তৈরি করে। তবে এটি এককভাবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। গ্রহের অবস্থান, তিথি, নক্ষত্র, লগ্ন—সবকিছু মিলিয়ে শুভ মুহূর্ত নির্ণয় করা হয়। বব করণ শুধুমাত্র একটি অনুকূল প্রবণতা নির্দেশ করে, চূড়ান্ত ফল নয়।

প্রশ্ন ৩: নাগ করণে বিবাহ করা কি একেবারেই নিষিদ্ধ?

উত্তর: নাগ করণে বিবাহের ক্ষেত্রে সতর্কতা প্রয়োজন। এই করণের প্রভাবে বৈবাহিক জীবনে অশান্তি ও মতবিরোধ হওয়ার প্রবণতা বেশি বলে শাস্ত্রবিদরা মনে করেন। তবে অন্যান্য গ্রহের অবস্থান অত্যন্ত শুভ হলে বা বিশেষ পরিস্থিতিতে জ্যোতিষীর পরামর্শ সাপেক্ষে বিবাহ করা যেতে পারে। এটি ‘নিষিদ্ধ’ নয়, বরং ‘সতর্কতা প্রয়োজন’—এমন করণ।

প্রশ্ন ৪: আমি কীভাবে নিজে করণ গণনা করতে পারি?

উত্তর: নিজে করণ গণনা করতে চাইলে প্রথমে তিথি ও তিথির অগ্রগতি ডিগ্রি জানতে হবে। এর জন্য চন্দ্র ও সূর্যের দ্রাঘিমাংশ প্রয়োজন। সাধারণ মানুষের জন্য নির্ভরযোগ্য পঞ্জিকা ব্যবহার করাই সবচেয়ে সহজ ও উত্তম পদ্ধতি। পঞ্জিকায় প্রতিদিনের করণ বিস্তারিত উল্লেখ থাকে।

প্রশ্ন ৫: ১১টি করণের মধ্যে কোনটি সবচেয়ে শুভ?

উত্তর: কাজের প্রকৃতির ওপর নির্ভর করে করণের অনুকূলতা নির্ধারিত হয়। ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য বণিজ করণ, বিবাহ ও সামাজিক অনুষ্ঠানের জন্য গরজ করণ, যাত্রা ও বাণিজ্যের জন্য তৈতুল করণ অনুকূল প্রবণতা তৈরি করে। তবে কোনো করণকে চূড়ান্তভাবে ‘সবচেয়ে শুভ’ বলা যায় না—প্রতিটি করণের নিজস্ব বৈশিষ্ট্য ও প্রযোজ্যতা রয়েছে।

প্রশ্ন ৬: পূর্ণিমা ও অমাবস্যার করণ কেন আলাদা?

উত্তর: পূর্ণিমা ও অমাবস্যা—এই দুই তিথিতে চন্দ্র ও সূর্যের অবস্থান বিশেষ হয়। পূর্ণিমায় চন্দ্র সূর্যের বিপরীতে থাকে, অমাবস্যায় একই অবস্থানে থাকে। এই বিশেষ অবস্থানের কারণে এদের করণগুলিও বিশেষ—এগুলি স্থির করণ নামে পরিচিত। কিম্বস্তুঘ্ন, শকুনি, চতুষ্পদ, নাগ—এই চারটি স্থির করণ শুধুমাত্র বিশেষ তিথিতেই আসে।

প্রশ্ন ৭: করণ গণনার জন্য চন্দ্র ও সূর্যের দ্রাঘিমাংশ কোথায় পাব?

উত্তর: করণ গণনার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়ার কয়েকটি নির্ভরযোগ্য উৎস হলো—(ক) সূর্য সিদ্ধান্ত ও মুহূর্ত চিন্তামণি প্রভৃতি প্রাচীন গ্রন্থ, (খ) আধুনিক জ্যোতিষ সফটওয়্যার, (গ) নির্ভরযোগ্য পঞ্জিকা। সাধারণ মানুষের জন্য নির্ভরযোগ্য পঞ্জিকা ব্যবহার করাই সবচেয়ে সহজ ও উত্তম পদ্ধতি।


📖 পরবর্তী পোস্টের ঘোষণা

আজ আমরা জানলাম করণ গণনার পদ্ধতি—শাস্ত্রীয় দৃষ্টিভঙ্গিতে। পঞ্চাঙ্গের পাঁচটি অঙ্গ—বার, তিথি, নক্ষত্র, যোগ ও করণ—সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা শেষ হলো। আশা করি, এই ধারাবাহিক পোস্টগুলি পড়ে আপনি পঞ্চাঙ্গের গভীরতা ও জ্যোতিষ দর্শনের মহিমা সম্পর্কে সম্যক ধারণা পেয়েছেন।

🌙 আজকের রাশিফল ও দিন পঞ্জিকা

জানুন আজকের রাশিফল, প্রেম, কর্ম, অর্থ, স্বাস্থ্য, শুভ সংখ্যা ও শুভ সময়।

আজই দেখুন →

🔮 ব্যক্তিগত পরামর্শ নিন

হস্তরেখা বিচার · জন্মকুণ্ডলী বিশ্লেষণ · যোটোক মিলন
Dr. Prodyut Acharya — PhD Gold Medalist · রানাঘাট

WhatsApp করুন

Razorpay দ্বারা সুরক্ষিত • UPI • Card • Net Banking

🧑‍🎓

Dr. Prodyut Acharya

PhD Gold Medalist · জ্যোতিষী ও হস্তরেখাবিদ · রানাঘাট, নদিয়া

১৫+ বছরের অভিজ্ঞতায় হাজারো জন্মকুণ্ডলী ও হস্তরেখা বিশ্লেষণ করেছেন। → আরও জানুন